প্রায় ১৪টি দোকানে খুঁজেও যখন নবান্ন ম্যাচবক্স কোথাও খুঁজে পেলাম না, তখন মন সত্যিই খারাপ হয়ে গেল। কিছু ভাই বললেন আশা না হারাতে, কিছু ভাই বললেন আবার খোজ করতে। তাই আবার খোজে বের হলাম, তবে এবার একা না, সাথে এক বন্ধুকে নিয়ে।
প্রথমে চলে গেলাম বাসার পাশের লালবাগ চৌধুরী বাজারে। সারি সারি দোকান এবং একসাথে সব দোকানের শাটার বন্ধ। আজব ব্যাপার, শুক্রবার, ছুটির দিনের বিকালবেলা সব দোকান বন্ধ কেনো? এক এক করে দোকানে যাচ্ছি আর জিজ্ঞেস করছি, "আংকেল, স্যালমন ম্যাচবক্স আছে?" আমার চোখের আগ্রহ এবং উত্তেজনা দেখে একেক জন যে কিরকম অবাক চোখে তাকালো তা বলে বুঝানো যাবে না।
এক এক করে পাড়ি দিলাম ১৩ দোকান, না, আজকেও হয়তো ভাগ্য সহায় হবে না আমার। অচেনা অলিগলি বিশ্লেষণ করতে করতে পৌছালাম এক গলির শেষ মাথায়। ডান দিকে আমার বাসায় চলে যাওয়ার রাস্তা, বামদিকে একটা বড় দোকান। ভাবলাম, গতকাল ১৪ দোকান ঘুরেও ব্যর্থ হয়েছি, আজকেও ১৪ নম্বর দোকানেই দেখে শেষ করি এই খোঁজাখুঁজির যাত্রা?
বসে থাকা দোকানদার ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম স্যালমন ম্যাচবক্স আছে কিনা। বললো, "আছে।" সে সময়ে আমার চোখ দুটো যেভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠল, তা যদি কেও ফ্রেমবন্দি করতে পারতো, তাহলে তা কোনো এক রাশি ঝলমলে তারার উজ্জ্বলতা থেকে কম হতো না। দোকানদার ভাই যখন জানতে পারলো মানুষ ম্যাচবক্সও সংগ্রহ করে, তার চেহারা ছিল দেখার মতো। সে অন্যান্য ক্রেতার আবদার না মিটিয়ে শুধুমাত্র ২০ মিনিট আমার সাথেই কথা বললো ম্যাচবক্স সংগ্রহ এবং প্রদর্শনী নিয়ে। শেষে সে আমার সাথে ফেসবুক অ্যাপে যুক্ত হয়ে নিল, যেন ভবিষ্যতে আমি তার কাছ থেকে ক্রয় করা ম্যাচবক্স দিয়ে প্রদর্শনী করলে সে সেটা দেখতে পায়।
তার চোখে-মুখে যেই অসীম আগ্রহ আমি আজকে দেখতে পেয়েছি, সে আগ্রহ আমার আশেপাশের সবার চেহারায় দেখার জন্য হলেও আমি ম্যাচবক্স সংগ্রহ করা চালিয়ে যাব এবং সকলকে অবাক করে বলে যাব, "হ্যা, ম্যাচবক্সও সংগ্রহ করা যায়।"




No comments:
Post a Comment